ব্যবসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যবসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

ব্যবসার পরিকল্পনা

আপনি ব্যবসা করতে চান কিন্তু কোনও বড় ব্যবসার পরিকল্পনা নেই?
সফল ব্যবসার পরিকল্পনার থেকে ব্যবসা করার আকাঙ্খা সবসময়ই বেশি থাকে।
সত্যি কথা বলতে কি, কোনও কিছু বিক্রি করা ছাড়া ব্যবসা শুরু সম্ভব না।
এবং, শুরুতে কখনও কখনও সেটা খুব কঠিন হতে পারে।

তাই সৃজনীশক্তির সাহায্যে কীভাবে একটি ব্যবসার পরিকল্পনা করা যায় তার কয়েকটি উপায় এখানে তুলে ধরছি।
এই প্রক্রিয়াগুলি আপনাকে আপনার ব্যবসা পরিকল্পনাতে সাহায্য করবে।

১.  পড়ুন এবং সবকিছু পড়ুন

ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরির দক্ষতা বাড়ানোর সর্বোত্তম উপায়টি হলো পড়া |
এলান মাস্ক প্রতিদিন দু’টি করে বই পড়তেন; বিল গেটস বলেছেন তিনি প্রতি বছর ৫০ টি বই পড়েন; এবং ওয়ারেন বাফেট তাঁর কাজের দিনের ৮০% ব্যয় করেন পড়াশোনার পিছনে। বাফেটের মতে সাফল্য অর্জনের প্রথম ধাপটিতে  অনেক পড়তে হয়।
কিন্তু, কেন এই বিখ্যাত ব্যক্তিরা পড়াকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন?

উত্তরটি সহজ, আপনি যত বেশি জানবেন, তত বেশি আপনি বুঝতে পারবেন। কিছু জানা এবং কিছু বোঝার মধ্যে একটি বড় পার্থক্য আছে।

প্রথমটি আপনাকে চিনতে সাহায্য করবে, এবং পরেরটির সাহায্যে আপনি বিশ্লেষণ করতে পারবেন। পঠন আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞানলাভে সাহায্য করে।

ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি হয় দুই বা ততোধিক বিষয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্যে দিয়ে। অ্যাপলের আইফোন, আইওয়াচ, টেসলা বা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা ভাবুন ।
প্রথমে তাঁরা একটি সংযোগ দেখেন এবং তারপর সেই পরিকল্পনাগুলোকে ব্যাবহারিক জীবনের সঙ্গে মেলান।
পরিকল্পনাগুলো অবাস্তব হিসাবে শুরু হলেও আপনাকে সে বিষয়ে এতটাই জ্ঞান অর্জন করতে হবে যাতে সারা পৃথিবীকে সেটা নিয়ে ভাবাতে পারেন।
এই বক্তব্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তিটি দেখে নেওয়া যাক।

গবেষকরা দেখিয়েছেন কেউ যখন কোনও উপন্যাস পড়ে মস্তিষ্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কিছু সংযোজন ঘটে এবং পরবর্তী কয়েক দিনের জন্য তার একটি প্রভাব থাকে।

সহজভাবে বলা হয়, আপনি যত তাড়াতাড়ি মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারবেন, তত দ্রুত আপনি চিন্তা করবেন এবং পরিকল্পনা  তৈরি করতে পারবেন। সেই জন্য পড়ুন, যা পাবেন তাই পড়ুন।

২ . অকারণ চিন্তাভাবনা বন্ধ করুন

ভেবে দেখেছেন কখনও কখনও  কিছু জিনিস আপনার জিভের গোড়ায় থাকলেও কেন আপনি সেটা মনে করতে পারেন না ?

ব্লকিং নামক এক তত্ত্ব বলছে, আপনার মস্তিষ্কে নিউরন চেষ্টা করে আপনি যে তথ্যটি চাইছেন তা অনুসন্ধান করতে, কিন্তু কখনও কখনও ডানদিকের পরিবর্তে এটি বাম দিকে দিক বদল করে ফেলে। সুতরাং, নিউরন পরিকল্পিত গন্তব্যস্থলের পরিবর্তে পৌঁছয় লক্ষ্যহীন স্থানে।
এই কারণে আপনি এত কাছাকাছি পৌঁছেছেন মনে করেন, কিন্তু ঠিক সেখানে পৌঁছন না।

সমস্যা হল আপনি যত দৃঢ় ভাবেই চেষ্টা করুন, সক্রিয়ভাবে আপনি নিউরনকে সঠিক দিকে নিয়ে যেতে পারবেন না। বরং আপনাকে এই সব সম্পর্কে চিন্তা করা থামাতে হবে।
এর ফলে, আপনার মস্তিষ্ক একটু বিশ্রাম নিতে পারবে এবং যেহেতু বিষয়টি আপনার অবচেতনেই ঘোরাঘুরি করে, কিছুক্ষণ পরে তথ্যটি নিজে থেকেই ধরা দেবে।

একই জিনিস ঘটে যখন আমরা পরিকল্পনা বা কোনও সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি।
 আমাদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট মোড়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারপর হটাৎ আমরা অন্য দিকে গিয়ে পৌঁছই ,যেখান থেকে আর কোথাও যাওয়া যায় না।

এটি ঘটে যখন কোনও কিছু করতেই হবে ভেবে আপনি জোর করে সেটা করার চেষ্টা করেন। পরিবর্তে, খানিক বিরতি নিন এবং তারপর সমস্যা সমাধান বা পরিকল্পনায় ফিরুন।
আগের সমস্যাটি আবার নতুন ভাবে ভাবতে আপনার মস্তিষ্কের মাত্র ২0 থেকে ৩0 মিনিট সময় লাগবে।

তারমানে এই নয় যে আপনি প্রথমবারেই সমাধান পেয়ে যাবেন।
 এই প্রক্রিয়াটিতে আপনার দিন, সপ্তাহ বা এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে, তারপর আপনি পেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত পরিকল্পনা।

আমি বলতে চাইছি মস্তিষ্ককে বেশি করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে আপনি নিজের কোনও উপকার করছেন না। এটা একটি জৈবিকপ্রক্রিয়া।

৩. প্রতিটি ব্যবসা পরিকল্পনার মূল্যায়ন করুন

পরিশেষে, খারাপ পরিকল্পনায় ভয় করবেন না।
প্রতি কোম্পানি এবং উদ্যোক্তা পরবর্তী সফল পরিকল্পনা খুঁজে চলেছেন, কিন্তু তাঁরা প্রায়ই এটা বুঝে উঠতে পারেন না যে সবচেয়ে ভাল পরিকল্পনা আসে অনেকগুলো ব্যর্থ পরিকল্পনার পর।
আপনি যদি শুধু ভাল পরিকল্পনার উপর আপনার সর্ব শক্তি দিয়ে মনোনিবেশ করেন, তাহলে আপনি সর্বোত্তম পরিকল্পনা থেকে বঞ্চিত হবেন। |

সুতরাং, খারাপ পরিকল্পনায় ভয় পাবেন না।
এমনকি কোনও পরিকল্পনা যদি এখন খারাপও মনে হয়, লিখে রাখুন ভবিষ্যতে তা কাজে লাগতে পারে।

অতএব, ব্যর্থ ব্যবসা পরিকল্পনার ভয়কে সরিয়ে রেখে, মনকে নিজ সৃজনশীলতা সঙ্গে খেলতে দিন।

আপনি একা বা অন্যদের সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনা করতে পারেন।
ভুল হওয়া পরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র।
ঝুঁকি নিন, ভুল করুন, ভুল থেকে শিখুন।
কিভাবে একটি সৃজনশীল ব্যবসার পরিকল্পনা করবেন?





৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ নতুন ব্যবসা শুরু

যদি আপনি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চলেছেন , তাহলে বেশি চিন্তা ভাবনা করে , 
অভাবনীয় অঙ্কের টাকা সংগ্রহের দরকার নেই। 
৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেও দারুন ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনি। 
৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি, নতুন ব্যবসার দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। 
ডিলারশিপ ও ডিস্ট্রিবিউটারশিপের ব্যবসা আপনাকে উন্নতিক শিখরে নিয়ে যাতে পারে। 
দেশের সবচেয়ে বড় ই কমার্স সংস্থাগুলি দেশের বহু ডিস্ট্রিবিউটার ও ডিলারকে নিজের সঙ্গে রাখতে চায়। 
ফলে এই ব্যবসা বেশ লাভজনক বলে দাবি অনেক বিশেষজ্ঞের। 
ইকমার্স সংস্থাগুলি অনেক ধরনের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে। 
এই সংস্থাগুলির নেটওয়ার্ক অনেক কটি চ্য়ানেলের সঙ্গে জড়িত থাকে। 
এরা টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। 
ফলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সঠিক মাধ্যম হয়ে থাকে এরা। 
এই ওয়েবসাইটগুলি নিজেদের গ্রাহকদের পর্যন্ত অনেক সহজে পৌঁছে যায়।
 যদি আপনি আপনার জন্য কোনও সংস্থার ডিলারশিপ নেন , তাহলে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ৫০ হাজার টাকা। 
তবে ডিস্ট্রিবিউটারশিপ নেওয়ার জন্য বিনিয়োগের খরচ একটু বেশি।
 সেক্ষেত্রে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ১ লাখ টাকা। 
তবে ব্যবসা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আপনি লাভের মুখ দেখতে পাবেন।
তবে উৎাপাদিত পণ্য রাখার জন্য গুদামের ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। 
প্রয়োজন ডেলিভারি বয়-এরও। 
প্রত্যেকটি ডেলিভারির জন্য আপনি পাবেন ৮০০ টাকার মার্জিন। 
কিছু উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একদিনে ৮ থেকে ১০ টি অর্ডার সহজে আসতে পারে আপনার কাছে। 
এই কাজে বুকিং পাওয়ার জন্য কিছু ব্য়ক্তির সঙ্গে জানা শুনো জরুরি, যাঁরা এই ধরনের কাজ করে থাকেন।
 

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯

ছোট ব্যবসার আইডিয়া

ছোট ব্যবসায় আইডিয়াগুলো আরএমজি ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালদের আগ্রহী করতে পারে।
নিচে উল্লেখ করা হলো:

ছোট ফ্যাক্টরি সেটাপ:
টেইলরিং বা ম্যানুফ্যাকচারিং বা মার্চেন্ডাইজিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ছোট ফ্যক্টরি সেটাপ করা যেতে পারে। কিছু টেইলর নিয়োগ দিতে হবে।
পোশাক তৈরি করে শহরে খুচরা কিংবা পাইকারী বিক্রেতার নিকট বিক্রি করা যেতে পারে।
পন্য হিসেবে বেছে নেয়া যেতে পারে স্কুল ইউনিফর্ম, লেডিস কুর্তি, ছেলেদের শার্ট।

সাব-কন্ট্রাক্টিং বিজন্যাস:
ছোট ফ্যাক্টরি সেটাপ দিয়ে রপ্তানিকারক বা ডমেস্টিক ব্রান্ড এর জন্য কাজ করা যেতে পারে।
পিক সিজনে বড় ফ্যাক্টরি ও বায়িং হাউজগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতার অধিক পরিমান অর্ডার আসে। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট নিমিত্তে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করায়। এক্ষেত্রে বায়ার হ্যান্ডল করতে হবে না। মাল ম্যাটারিয়ালস কিনতে হবে না।
রপ্তানিকারকের কাছ থেকে কাটিং করা ফেব্রিক আসবে ব্যবসায়ের কাজ হবে শুধু সেলাই করা।

গার্মেন্টস পাইকারি ব্যবসায়:
কাজের অতিরিক্ত সময়কে ফলপ্রসু করতে চাইলে করা যেতে পারে পাইকারি ব্যবসায়।
উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরি থেকে তৈরি পোশাক সোর্সিং করে এবং শহরের ছোট দোকানগুলোতে সরবরাহ করা যেতে পারে। বড় পরিসরে কিনে বিক্রি করতে পারলে মুনাফার পরিমানও বেশি হবে।

রপ্তানি পরবর্তী উদ্বৃত্ত পণ্যের দোকান:
বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর রপ্তানিযোগ্য পণ্যের চাহিদা প্রচুর। সবাই চায় অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে বিখ্যাত ব্যান্ডগুলোর ট্রেন্ডি পোশাক গায়ে জড়াতে। তাই তারা রপ্তানি পরবর্তী অতিরিক্ত পোশাক খোজে। রিজেক্টেড ও সারপ্লাস পণ্য বিক্রির দোকান খোলা হবে একটি লাভজনক ব্যবসায়।

যারা এই শিল্পে কাজ করেন বা করেছেন তারা জানেন যে, প্রস্তুতকারক অর্ডারকৃত পণ্যের চেয়ে বেশি পণ্য প্রস্তুত রাখেন। আবার অনেক সময় সম্পূর্ণ শিপমেন্টই বাতিল হয়ে যায় কোওয়ালিটি ইস্যু বা দেড়িতে শিপমেন্ট এর জন্য। ফ্যাক্টরি থেকে এসব পন্য কিনে আকর্য়নীয় মূল্যে বিক্রি করা যেতে পারে।

প্রিন্টিং এবং এ্যামব্রয়ডারি ইউনিট:
গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে প্রিন্টিং এবং এ্যামব্রয়ডারি হলো ভ্যালু এ্যডিং প্রসেস।
বর্তমান ফ্যাশন আমলে, পোশাককে ট্রেন্ডি করতে ডিজাইনাররা কালার ও প্যাচ যুক্ত করে। কিছু পন্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্যেই প্রিন্ট অথবা এ্যামব্রয়ডারি অথবা দুটোই আশা করেন ক্রেতারা। প্রিন্টিং ও এ্যামব্রয়ডারির জন্য বিনিয়োগ করতে হবে মেশিনে।
এজন্য ছোট রপ্তানিকারকগন এই ভ্যালু এ্যাডিং প্রসেসিংটা অন্যদের থেকে করিয়ে নেন। তো, তাদেরকে সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে ব্যবসায় করতে চাইলে, মুনাফাধর্মী হওয়া যাবে।

ওয়াশিং প্ল্যান্ট:
গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এ বিভিন্ন ধাপে কাপড় ওয়াশ করতে হয়। আবার দেখা যায়, বায়ার ওয়াশ করা পন্য চায় এবং সাথে কিছু ফিচারও।
যেমন- ওয়াশ এর পর কিছু কিছু লুক ও হ্যান্ড ফিল। ছোট প্রস্তুতকারকদের সাধারনত ওয়াশিং প্ল্যান্ট থাকে না। এই অপশনটিকে ব্যবসায়ের সুযোগ হিসেবে দেখা যায়।

গার্মেন্টস বায়িং এজেন্সি:
যদি কোন এক্সপোর্ট হাউজ বা কোন বায়িং হাউজে কিছু বছর মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করে থাকেন, তাহলে বায়ারদের সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। তাদের সাথে কন্টাক্ট করে অর্ডার নেয়ার ভালো সুযোগ থাকে। অর্ডার নিতে পারলে উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরি থেকে অর্ডারকৃত পণ্য সরবরাহ করতে পারেন। প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও স্যাম্পল রুম রাখতে হবে। এর জন্য প্রাথমিক ভাবেই কিছু মানবসম্পদ নিয়ে টিম করে কাজ করতে হবে।

ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস:
আরএমজি ইন্ডাস্টি এখন আইটি বেইজড হয়ে যাচেছ। ইআরপি সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সমাধান। যদি আইটি নলেজ ভালো থাকে এবং রপ্তানিকারকের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রযোজনিয় টুল আবিষ্কার করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যৎ উজ্জল। প্যাটার্ন মেকিং সলিউশন, প্রোডাকশন প্ল্যানিং, কাচামাল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সুবিধা দিতে পারলে ব্যবসায় ভালো করতে পারবে।

উপরোল্লিখিত আইডিয়াগুলো প্রাথমিক দৃষ্টিতে ছোট মনে হচ্ছে।
তবে শুরু করতে পারলে একদিন এত ছোট থাকবে না।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোন ফ্যাক্টরি বা কোম্পানিই বড় ও প্রতিষ্ঠিত ছিলো না
শুরুতেই কেউ বড় পরিসরে শুরু করতে পারেন না।
ছোট আকারে শুরু করে উন্নত সেবা ও পন্য সরবরাহ করে ধীরে ধীরে বড় আকার ধারন করছে। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৯

তিন বছরের মধ্যে নারিকেল গাছে ফল



দিন দিন বাড়ছে খাটো জাতের নারিকেল চারার চাহিদা।
সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা এ চারা বিভিন্ন জেলায় লাগানো হচ্ছে। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৫০ হাজার খাটো জাতের নারিকেল চারা আমদানি করা হয়েছে। 
যার অধিকাংশ দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রোপণ করা হচ্ছে। 
তবে ৫ শতাংশ চারা এখনও মজুদ রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সারা বছর ফল উৎপাদনের জন্য ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় এ চারা বিতরণ করছে। 
এ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ১০ লাখ চারা আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য খাটো জাতের নারিকেল চারার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।

এক একর জমিতে ৭০টি নারিকেল চারা রোপণ করা যায়। 
তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসায় এর প্রতি আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। 
সূত্র জানায়, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খাটো জাতের নারিকেল গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।

এছাড়া বান্দরবান, রাঙ্গামাটি জেলার পাহাড়ি এলাকায়ও এ জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। 
সারা দেশে হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে এ চারা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়। 
রাজধানীতে আসাদগেট হর্টিকালচার সেন্টার থেকেও এ জাতের গাছ সংগ্রহ করছেন রাজধানীবাসী।

জানা যায়, দেশে অতিমাত্রায় ডাব বিক্রি হওয়ায় নারিকেল গাছের ফল বা (বীজ) প্রাপ্তির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের ৪ হাজার ৮৭ একর জমিতে ৬২ লাখ নারিকেল গাছ আছে; যা চাহিদর তুলনায় কম। 
এ পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম থেকে ছোট জাতের নারিকেলের চারা আমদানি করা হয়েছে।

এ জাতের ডাব খুবই সুস্বাদু। এছাড়া ফলনও লম্বা জাতের গাছের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতি গাছে বছরে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি ফল ধরে। গাছ রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেল গাছে ফুল আসতে ৭ থেকে ৮ বছর লেগে যায়। ভিয়েতনামের খাটো জাতের ডাবে পানির পরিমাণও অনেক বেশি।


প্রতিটি ডাব থেকে ৩০০ এমএল পানি পাওয়া যাবে। সব ধরনের মাটিতেই এ গাছ লাগানো সম্ভব। তা ছাড়া এ জাতের গাছ লবণাক্ততা অনেক বেশি সহ্য করতে পারে। গাছ খাটো হওয়ায় পরিচর্যাও সহজ। গাছে ওঠা দূরে থাক, মাটিতে বসেই নারিকেল পাড়া যায়। এ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল নারিকেল থেকেই এর চারা হবে।

ভিয়েতনাম থেকে দুই ধরনের খাটো জাতের নারিকেল চারা আনা হচ্ছে। এর একটি হল সিয়াম গ্রিন কোকোনাট। এটি ডাব হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয়। তবে ফলের আকার কিছুটা ছোট। আরেকটি জাতের নাম সিয়াম ব্লু কোকোনাট। এটিও অতি জনপ্রিয় জাত ও আকারে বড়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, দেশে ডাবের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু নারিকেল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এজন্য বিশেষ এ জাতটি আমদানি করা হয়েছে। বছরে দেশি একটি গাছে ৫০ থেকে ৬০টি নারিকেল ধরলেও আমদানি করা এ গাছে গড়ে ২০০টি নারিকেল ধরবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর